Monday, December 12, 2011

গ্রীবা


এই কবিতাখানা উৎসর্গ করিলাম, জনপ্রিয় ব্লগার, আমার প্রিয় একজন লেখিকা,  শ্রদ্ধেয় তানবীরা ভগ্নীর কেশকমলে.....................

আপা, এই কবিতাটিও যদি আপানার মাথার উপর দিয়ে যায়, তাহলে আমি ছাঁদ থেকে জাম্পু দিব; মরলে শহীদ বাঁচলে গাজী... ( গাজী নামটা ভয়ানক ব্যাকডেটেড, এইখানে মিতুল বা সাজিদ জাতীয় স্মার্ট নাম ইউস করতে পারলে হেপি হইতুম )

                 ক
প্যাসেজ ধরে আসার সময় অন্ধকারে
সেদিন তোকে ছোঁব বলে হাত বাড়িয়ে
আঙ্গুলগুলো রেখেছিলাম গ্রীবার উপর

ঠোঁট ছিল তোর, বুক ছিল তোর, হাতের কাছেই
তুইও ছিলি বাধ্য সেদিন প্রেমের মোহে
তবুও আমার আঙ্গুল গেল গ্রীবার উপর

এক সকালে স্বচ্ছ রোদে ধাক্কা খেয়ে
বুক ঠেকালি জীর্ণ আমার কনুই সোজা
করতলের একটু দূরেই তিতিরদুটো

তোরও ছিল পেষণ পিয়াস মুহুর্মুহু
আমি হঠাৎ কিসের টানে সন্ত হলাম ?
স্পর্শ দিলাম যথারীতিই গ্রীবার উপর



              খ
শ্রাবনের এক জল-ঘেরাণের রাত
অভিমানের মেঘ গলানোর ঝোঁকে
আবছা আলোয় তোর বিছানাই আমি

তোর চোখেতে অন্য জ্বরের লাল
আমার চোখে আগুন দেখা ঘোর
নরম শরীর এলিয়ে দিলি বুকের ঘাসে

স্বমেহনের ঘামের সঠিক দাম
পাওয়ার আধার তোর শরীরের বাঁক
গভীর শ্বাসে উঠল তেতে দেহের জোড়া





                গ
পর্দা খুলে সরোবরে নামার আগে
উপাচারে মগ্ন দুটি আদিম দেহ
বুকেও নয় ঠোঁটেও নয়, অবাক হয়ে
খুঁজে পেলাম মগ্ন অধর তোর গ্রীবাতেই।
     



Sunday, December 11, 2011

ইদানীং দিনকাল


আপনাদের দোয়ায় আমি এখন পুরোপুরি নিশাচর। গত তিন রাত হোল  ঘুমাই না । খাদ্যাভ্যাসেও ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে গেছে।  ইদানিং মায়ের হাতের ঘী-কাঞ্চন শাকের অমৃত খেতে পুরোপুরি  দুব্বা ঘাসের মত লাগছে। গত পরশু রাগ করে রুই ভুনার বাটিতেও মৃদু একটা লাথি বসিয়েছি।

কি এক বিচিত্র কারণে গলার পাইপ লাইন মারাত্মক খসখসে হয়ে গেছে। সেখানে গ্রিজ লাগাতে পারলে যারপর নাই আমোদিত হতাম ।

কিছুদিন আগে চশমা পালটিয়েছি। খুব ভালো হতো যদি নতুন চশমাটাকে পেষণ দাঁত দিয়ে উত্তমরূপে  পিষতে পারতাম । গেলাস আর ফেরেমের ভেতরকার স্ক্রুগুলো অকারণে ঢিলা হয়ে যাচ্ছে । এই কয়দিনে মোট পাঁচ বার সারভিসিং এ নিয়ে যেতে হয়েছে । হারামজাদা চশমার দোকানদার এখন আমাকে মোটামুটি ভোঁদাই পাবলিক হিসেবে ট্রিট করছে।

নাকের দুই কিনারা কুৎসিত ভাবে চৌচির হয়ে আছে, ময়শ্চারাইজিং ক্রিম সংক্রান্ত সকল প্রচেষ্টা মাঠে মারা যাচ্ছে।

সকাল আটটার দিকে ঘুমাতে যাচ্ছি। ঘুম ভাংছে পাড়ার ময়াজ্জিন ছাহেবানের এশা ওয়াক্তের সম্মিলিত চিৎকার ধ্বনি শুনে। একটা দিনকে এই ভাবে বাঁশ মারার দুঃখে প্রতিদিন অন্তত তিন বার আত্মহত্যা করার ইচ্ছে জাগছে।


আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে জন্মদাত্রীর উত্তাল উদ্বেগে যারপর নাই বিরক্ত হচ্ছি।

জন্মদাতার আইস কুল শীতলতা যথেষ্ট বিশ্রী লাগছে।


ঘরে এক গাদা আনকোরা বই পড়ে আছে, কিন্তু  পড়া হচ্ছে না। সফোক্লিসের ইদিপাস আর জীবনানন্দের মাল্যবান নিয়ে একমাস যাবত ঘুতুরঘুতুর করছি।

কবিতা লেখার পশ্চাতদেশে আস্ত একঝাঁড় বাঁশ অবস্থান করছে।

Tuesday, June 28, 2011

সারমেয় বোধ!

আমার আমি বিষয়ক বোঝাপড়াটা দিন দিন ভিষন ঘোলাটে আর আবছা হয়ে যাচ্ছে।অপ্রাপ্তবয়সে প্রাপ্তমনস্কতা অস্বস্তিকর। তবুও ভাল থাকার মিথ্যে তকমাটা ঝুলিয়ে রাখি বাইরের পাশটায়। খুব সহজ স্বার্থপর একটা বোধের জন্য অবচেতনে পীড়ন অনুভব করি, যদিও গভীর একটা বোধে জিইয়ে আছি এমন দাবি করি না, শুধু ওপরে ওপরে হাতড়ে মরি। সেই জন্যে মুক্তি শৃঙ্খল কোনটাই পাই না, ঝুলে আছি অপ্রত্যাশিত অনির্বচনীয় কিছু একটায়।আমি ভিন্ন কিছু না, সবার মতোই সবকিছু আছে, কি ভাল কি খারাপ, তবুও কোথায় যেন সুতোর টান অন্যরকম মনে হয়।এই অস্বাভাবিকতার কি চিকিত্‍সা আছে নাকি এটাই একটু ভিন্ন গোছের স্বাভাবিকতা? তর্কে বলি ভিন্নরা বিশিষ্ট কিন্তূ অবচেতনে ভাবি ভিন্নরা অভিশপ্ত। এই দ্বৈততায় বয়ে যাচ্ছে বেলা... কিছু একটা করতে খুব যে ইচ্ছে করে!

Wednesday, June 15, 2011

হিরণবালা

হেলাল হাফিজ
.
হিরণবালা তোমারকাছে দারুন ঋণী সারা জীবন
যেমন ঋণী আব্বা এবং মায়ের কাছে।
ফুলের কাছে মৌমাছিরা
বায়ুর কাছে নদীর বুকে জলের খেলা যেমন ঋণী
খোদার কসম হিরণবালা
তোমার কাছে আমিও ঠিক তেমনি ঋণী।
তোমার বুকে বুক রেখেছি বলেই আমি পবিত্র আজ
তোমার জলে স্নান করেছি বলেই আমি বিশুদ্ধ আজ
যৌবনে এই তৃষ্ণা কাতর লকলকে জিভ
এক নিশীথে কুসুম গরম তোমার মুখে
কিছু সময় ছিলো বলেই সভ্য হলো
মোহান্ধ মন এবং জীবন মুক্তি পেলো।
আঙুল দিয়ে তোমার আঙুল ছুঁয়েছিলাম বলেই আমার
আঙুলে আজ সুর এসেছে,
নারী-খেলার অভিজ্ঞতার প্রথম এবং পবিত্র ঋণ
তোমাকে নিয়ে কবিতা লিখে সত্যি কি আর শোধ হয়েছে?

একেই বুঝি মানুষ বলে

সৈয়দ শামসুল হক
.
নষ্ট জলে পা ধুয়েছো এখন উপায় কি?
আচ্ছাদিত বুকেরবোঁটা চুমোয় কেটেছি।
কথার কোলে ইচ্ছেগুলো বাৎসায়নের রতি,
মানে এবং অন্য মানে দুটোই জেনেছি।
নষ্ট জলে ধুইয়ে দেবে কখন আমার গা,
তোমার দিকে হাঁটবে কখন আমার দুটো পা?
সেই দিকে মন পড়েই আছে, দিন তোহলো শেষ;
তোমার মধ্যে পবিত্রতার একটিমহাদেশ
এবং এক জলের ধারা দেখতে পেয়েছি-
একেই বুঝি মানুষ বলে, ভালোবেসেছি।

বৃষ্টি বিলাস

জোর বাতাস, ধীরে ধীরে চরাচর অন্ধকার হয়ে আসছে: বৃষ্টি হবে। বাসার পাশের ভাঙ্গা বাসাটায় কনস্ট্রাকশানের কাজ চলছে, ইট ভাঙা মেশিনের একটানা ঘটর ঘটর শব্দে বৃষ্টি পূর্ব আমার সেই বিশেষ সমাহিত অনুভূতিটা কেমন যেন ভেঙে ভেঙে যাচ্ছে।যাক ভেঙে, বৃষ্টি আসছে সেটাই বড় কথা... প্রবল ইচ্ছা থাকলেও খুব করে বৃষ্টিতে ভেজা হয়নি কখনো। মায়ের বকুনির ভয়, সামনের পরীক্ষা জ্বরের কারণে মিস হয়ে যাওয়ার ভয়-এইরকম হাজার রকম ভয়ভীতি এসে বৃষ্টিতে খুব করে ভেজার ইচ্ছেটাকে গলা টিপে মেরে ফেলে প্রতিবার।ফেলুক মেরে, বৃষ্টি আসছে সেটাই বড় কথা...
আমি না হয় না ই ভিজলাম, আমার বন্ধু কদম গাছটিতো আছে। হাজার হাজার পাতার হাত নেড়ে নাচতে নাচতে সে ঝিলমিলে বৃষ্টিতে ভিজবে, আর দুনিয়ার শ্রেষ্ঠতর সেই দৃশ্যটি আমি ভেজা গ্রীলে কপাল ঠেকিয়ে দেখব ঝাপসা নয়নে, এও বা কম কিসের?

Tuesday, June 14, 2011

ফটাস-মৃত্যু সম্পর্কিত কিছু হাবিজাবি

হঠাত্‍ হঠাত্‍ একটা চিন্তা মাথায় আসে-আর কতদিন পৃথিবীতে আছি।
এই যেমন এখন, ইংরেজী পরীক্ষার আগের রাত্রে (এইচ এস সি) কিভাবে কিভাবে যেন অদ্ভুত চিন্তাটা মাথায় এসে পড়েছে।
আচ্ছা কতদিন বাঁচবো তা না ভেবে কতদিন বেঁচে ফেলেছি তাই হিসেব করা যাক। ইয়াল্লা! আঠারোটা বসন্ত দেখা হয়ে গেছে!
সবার মতো আমার ভেতরও একটা কেঁচো খোর শুয়োর আছে, আমাকে আঁতকে উঠতে দেখে শুয়োরটা খিলখিল করতে করতে বললো-"ঈশ্ ! ভাবখানা দেখে মনে হচ্ছে বুড়ো হয়ে গেছিস, মোটে তো আঠারো। এইসব বুড়ামি বাদ দিয়ে যা মাস্তি করগে....."
এই শুয়োরটাকে কে বুঝাবে যে আঠারো বছরে মারা যাওয়া আমাবস্যার চাঁদ জাতীয় কিছু না, এর চেয়ে কম বয়সেও তো ফটাস ফটাস করে মানুষ মারা যাচ্ছে।
আমিও যে দু একদিনের ভেতর এরকম ফটাস্ করে মরে যাব না এরকম কথাতো কোন আসমানী কিতাবে লেখা নেই।যদি কপালে এরকম ফটাস-মৃত্য থাকে তাহলে কী একটা বিশ্রী ব্যাপার হয়ে যাবে না ? আঠারোটা বছর ধরে কোন কাজের কাজ করিনি, অথচ করার মতো কতো কিছুই না চারিদিকে। করার মতো কোন কাজ না করে যদি ফটাস-মৃত্য হয়ে যায় তাহলে কি লজ্জার ব্যাপারটাই না হবে!

বেচারা ব্লগার:

খুলনা, বাংলাদেশ
ভয়াবহ অনিচ্ছার সাথে পড়াশোনা করি।আবেগ আছে অগণন।আকাশ কুসুম স্বপ্নে অশ্লীল রকম আগ্রহী।