Sunday, December 11, 2011

ইদানীং দিনকাল


আপনাদের দোয়ায় আমি এখন পুরোপুরি নিশাচর। গত তিন রাত হোল  ঘুমাই না । খাদ্যাভ্যাসেও ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে গেছে।  ইদানিং মায়ের হাতের ঘী-কাঞ্চন শাকের অমৃত খেতে পুরোপুরি  দুব্বা ঘাসের মত লাগছে। গত পরশু রাগ করে রুই ভুনার বাটিতেও মৃদু একটা লাথি বসিয়েছি।

কি এক বিচিত্র কারণে গলার পাইপ লাইন মারাত্মক খসখসে হয়ে গেছে। সেখানে গ্রিজ লাগাতে পারলে যারপর নাই আমোদিত হতাম ।

কিছুদিন আগে চশমা পালটিয়েছি। খুব ভালো হতো যদি নতুন চশমাটাকে পেষণ দাঁত দিয়ে উত্তমরূপে  পিষতে পারতাম । গেলাস আর ফেরেমের ভেতরকার স্ক্রুগুলো অকারণে ঢিলা হয়ে যাচ্ছে । এই কয়দিনে মোট পাঁচ বার সারভিসিং এ নিয়ে যেতে হয়েছে । হারামজাদা চশমার দোকানদার এখন আমাকে মোটামুটি ভোঁদাই পাবলিক হিসেবে ট্রিট করছে।

নাকের দুই কিনারা কুৎসিত ভাবে চৌচির হয়ে আছে, ময়শ্চারাইজিং ক্রিম সংক্রান্ত সকল প্রচেষ্টা মাঠে মারা যাচ্ছে।

সকাল আটটার দিকে ঘুমাতে যাচ্ছি। ঘুম ভাংছে পাড়ার ময়াজ্জিন ছাহেবানের এশা ওয়াক্তের সম্মিলিত চিৎকার ধ্বনি শুনে। একটা দিনকে এই ভাবে বাঁশ মারার দুঃখে প্রতিদিন অন্তত তিন বার আত্মহত্যা করার ইচ্ছে জাগছে।


আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে জন্মদাত্রীর উত্তাল উদ্বেগে যারপর নাই বিরক্ত হচ্ছি।

জন্মদাতার আইস কুল শীতলতা যথেষ্ট বিশ্রী লাগছে।


ঘরে এক গাদা আনকোরা বই পড়ে আছে, কিন্তু  পড়া হচ্ছে না। সফোক্লিসের ইদিপাস আর জীবনানন্দের মাল্যবান নিয়ে একমাস যাবত ঘুতুরঘুতুর করছি।

কবিতা লেখার পশ্চাতদেশে আস্ত একঝাঁড় বাঁশ অবস্থান করছে।

No comments:

Post a Comment

বেচারা ব্লগার:

খুলনা, বাংলাদেশ
ভয়াবহ অনিচ্ছার সাথে পড়াশোনা করি।আবেগ আছে অগণন।আকাশ কুসুম স্বপ্নে অশ্লীল রকম আগ্রহী।